আজ আমায় অবকাশ দাও
একটু অবসর দাও
আমার কাছে কোন কাজের কথা নাহি কও
কোন শব্দ যেন না হয় কোথাও
আলোগুলো সব নিভিয়ে দাও
একটু একা থাকতে দাও
একটু নীরবতা দাও
নড়াচড়া যেন না হয় কোথাও
জানালাটা খুলে দও
সুবাতাস-ঝিরঝির করা বাতাস আসতে দাও
ধীরে ধীরে বুক ভরে কিছুক্ষণ শ্বাস নিতে দাও।
ভোরের সূর্য ওঠা দেখি না কতদিন
শিশিরে পা ভিজিয়ে চলি না কতদিন
ভোরবেলা উঠি যতদিন
মন হয়ে থাকে অতীব মলিন।
এই চিন্তাই সারা মন জুড়ে রয়
সারাদিন সামনে আছে যতটা সময়
কাজের মাঝেই তারে করতে হবে ক্ষয়।
সারাদিন কাজের শেষে রাতের বেলাও
মন বলে, শুয়ে পড়, ঘুম যাও।
সকালে কত কাজ ভেবেছ কি তাও?
তাই আর তাকাই না কোথাও,
মনকে বলি ঘুম যাও।
আর নয় আর নয় আর নয়
ক্রমাগত কাজে ডুবে কাটানো সময়।
তুমি কি দেখতে পাও না
কিভাবে মারা গেল তারা
যাদের উদ্দেশ্য ছিল শুরু কাজ সারা
কেবলি সব কাজ সারা।
যারা অনবরত করে যেত কাজ
সকাল, সন্ধ্যা, সাঁঝ।
এবং বলত, করব আরও, আরও!
তুমিও কি তাই চাও
আমার কিংবা তোমারও
এসে যাক মৃত্যু হঠাৎ করে,
মারা যাই স্ট্রোকে, কোনকিছু লক্ষ্য না করে
নিজেরও অগোচরে।
আমি সেটা নাহি চাই
সারাদিন দিনমান কাজ আর কাজ
ক্ষণমাত্র স্বস্তির অবকাশ নাই।
তাই শুধু আবেদন-
অবসর তুমিও নাও
আমাকেও দাও
খানিকটা অবকাশ দাও
কিছুক্ষণ অবসর দাও।
১৯৯২
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি লিখুন।