১. চেতনা
আসা যাওয়ার পথে নুর হোসেন স্কয়ারের কাছে জিপিও এর পাশে এইচআরসি কেবলসএর একটি শ্লোগান চোখে পড়ে বাংলাদেশ আমাদের গর্ব। চলার পথে বাসের গায়ে গ্রামীন ফোনের শ্লোগান দেখি- আমার দেশ আমার অহংকার। যারা পারছে তারা নিজের জন্য, মানুষের জন্য দেশের জন্য প্রকৃত চেতনা বহন করেই এগিয়ে যাচ্ছে।
আজকে আমাদের অনেক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমরা কাঙ্খিত উন্নতি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারছি না। যদিও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে অনেক অগ্রগতি হয়েছে, তবে সর্বসাধারণের জীবনযাত্রার মান যেই স্তরে থাকা উচিৎ ছিল আমরা আজও তারচেয়ে অনেক পিছিয়ে।
তদুপরি আমাদের হীনমন্যতাবোধ এমনই যে অন্য লোকে যখন আমাদেরকে পৃথিবীর সবচেয়ে দূর্নীতিপরায়ন জাতি হিসাবে আখ্যায়িত করে তখন আমাদের গা জ্বালা করে। যদি তারা আমাদেরকে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা জাতি বলত তাহলেই কি আমরা তা হয়ে যেতাম কিংবা তা কল্পনা করে আত্মপ্রসাদের সাগরে ডুবে থাকতে পারতাম?
বরং প্রকৃত বিষয় এটাই যে অন্যেরা আমাদের উন্নতি করে দিলেও আমরা নিজেরা যদি তা না করি তবে আমরা সত্যিকার উন্নতি কোনদিনই লাভ করতে পারব না। আর আমাদের মধ্যে সহমর্মিতাপূর্ণ এবং ঐক্যবদ্ধ পরিবেশ সৃষ্টি না হলে কোনদিনই আমরা কাঙ্খিত সুনাম ও সফলতা অর্জিত হবে না। তখন দেখা যাবে, বিশ্বশান্তির জন্য জাতিসংঘ মিশনে এদেশের বহু সন্তান তাদের প্রাণ বিসর্জন দেয়া সত্ত্বেও তাদের কোন মূল্যায়ন বা অবদানের প্রকৃত স্বীকৃতি আমরা দিতে পারছি না, অন্যদের দেয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না।
২. অনুপ্রেরণা
এদেশে বহুলোক রয়েছে যারা অত্যন্ত সাধারণ অবস্থা থেকে অনেক বড় হয়েছে, উপরে উঠেছে, মানুষের মত মানুষ হয়ে দেশের মুখ উজ্জল করেছে। অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী, প্রকৃত জনসেবাকারী অনেক কৃতি সন্তান এদেশের বুকে জন্মেছে। এদের মধ্যে অনেকে এমন রয়েছে যারা খ্যাতি লাভ করেছে, কিংবা খ্যাতি লাভ করেনি, খ্যাতি লাভ করতে চায়নি, কোটি টাকা দিয়েও কেনা যাবে না, প্রকৃত জ্ঞান সাধক। আজও বহুলোক রয়েছে, যারা লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে মানবকল্যানে নিবেদিত প্রাণ, সর্ববিচারে সৎ মানুষের মঙ্গলের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে খাটছে এবং অপরের দুঃখে কেবল অম্ল নয় বরং প্রাণও বিসর্জন দেয়। এদেশের বহু সন্তান রয়েছে যারা কেবল দেশেই নয় বরং বিদেশেও দেশের জন্য প্রশংসা অর্জন করেছে। এদেশের গৌরনাময় সন্তান হিসাবে কাজ করে চলেছে।
ক্ষমতা অনেকেই পায় কিন্তু সোনিয়া গান্ধীর মত তা খুব কম লোকই প্রত্যাখ্যান করতে পারে এবং larger than life role play করতে পারে। এদেশের বুকেও এমন বহু লোক পাওয়া যাবে যাদের ক্ষমতা প্রদান করা হলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করবে।
নিজের জীবনের দৃষ্টান্ত থেকে বলতে পারি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন কালে দেখেছি, মরহুম ডঃ আব্দুল্লাহ ফারুক অসুস্থতার জন্য ক্লাসে লেকচার দিতে পারবেন না বলে টেপ রেকর্ডারে লেকচার রেকর্ড করে নিয়ে এসে তা প্লে করে শুনিয়েছেন যেন ছাত্ররা জ্ঞানার্জনে বঞ্চিত না হয়। অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ স্যারকে দেখেছি এক সেমিষ্টারে ৪৫ নির্ধারিত ক্লাসের স্থলে গুণে গুণে ২টি বোনাস ক্লাস সহ ৪৭টি ক্লাস নিয়েছেন এবং যারা সব ক্লাসে উপস্থিত ছিল এবং ক্লাস টেষ্টে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে তাদের বই উপহার দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন। সকাল ৮টায় তিনি ক্লাস নিতেন যেন ১০/১১টার মিটিং-মিছিলে ক্লাসের অসুবিধা না হয়। ক্লাসে নিয়মিত রোল কল করে বলতেন অনেক টিচার এটা না করলেও আমি করি কারণ এটা নিয়ম এবং শিক্ষকের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি তার বিষয়ের পরীক্ষার ফলাফল স্বল্পতম সময়ের মধ্যে প্রকাশ করেছেন এবং তার বদৌলতেই জানতে পেরেছি পরীক্ষার ফলাফল কতদিনের মধ্যে প্রকাশ করা নিয়ম এবং সম্ভব।
এমন রিকশাওয়ালার রিকশায় চড়েছি যে তার আয় দিয়ে তার ছেলেমেয়েদেরকে পড়াচ্ছে। তাদের মধ্যে একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ে।
এদেশের বহু বাবা-মা রয়েছে যারা আধপেটা খেয়ে, ছেড়া কাপড় পরে জীবনের সকল কষ্ট সহ্য করে কলিজার টুকরা সন্তানকে মানুষ করে গড়ে তোলার জন্য লেখাপড়া করিয়েছে এবং করাচ্ছে। আজকে এদেশে শত সহস্র ভিডিও/সিডির দোকান রয়েছে, লক্ষ লক্ষ লোক ডিশের লাইনে ছবি দেখার জন্য জীবনের অমূল্য সম্পদ সময় ও কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। কিন্তু তারপরও লক্ষ লক্ষ সন্তান হারিকেন-মোমবাতির আলোয়, মশার কামড় খেয়ে, উনুনের ন্যয় সিদ্ধ হওয়া গরমে লেখাপড়া করে নিজের ও দেশের ভাগ্য গড়ার জন্য পরিশ্রম করছে।
শুধু দুঃখের বিষয় অনুপ্রেরণাগুলো বিচ্ছিন্ন এবং মানুষের বহুবিধ ব্যস্ততার মাঝে তা চাপা পড়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরণের অন্যায় অশোভনীয় কাজ এবং তার চর্চা আমাদের মানসিক স্থিরতাকে বিনষ্ট করছে। যদি সমগ্র দেশে নিজের এবং দেশের মানুষের ভাগ্য গড়ে তোলার জন্য একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পারা যায় তবে পৃথিবীর এমন কোন শক্তি নেই যা আমাদেরকে উন্নতি লাভ করা থেকে বঞ্চিও রাখতে পারে।
৩. পরিকল্পনা-ব্যক্তি পর্যায় থেকে সমষ্টিগত পর্যায়ে
ক) ছাত্র-ছাত্রী-
আজ ছাত্র জীবন শেষ করে এসে ছাত্র জীবনের মর্ম বুঝতে পারছি। এখন বুঝি যে একজন ছাত্রের ভালভাবে অধ্যয়নরত থাকা বিশ্বশাসন করতে পারার সমতুল্য। কারণ তার মানুষ হয়ে বড় হওয়াই বিশ্ববাসীর জন্য কল্যাণস্বরূপ। দুঃখে দেয়ালে মাথা ঠুকতে ইচ্ছা করে যখন চিন্তা করি ২২/২৩ বছর কিংবা আরো দেরী হলে ২৪/২৫ বছর বয়সে যে ছাত্রের মাষ্টার্স শেষ করে কর্মজীবনের হাল ধরার কথা, জীবনের সুন্দর স্বপ্ন দেখার সাথে সাথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা, তখন তার ২৯/৩০ বছর বয়সেও দেশের/বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশৃংখলার জন্য শিক্ষাজীবন শেষ হয় না। এমনিভাবে দেশের এবং দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় এবং কার্যক্ষম শ্রেণীর তথা হাজার হাজার তরুন ছাত্র-ছাত্রীর জীবন থেকে হাজার হাজার বছর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একটি জাতির এর চেয়ে বড় ক্ষতি এবং পিছিয়ে পড়ার কারণ আর কি হতে পারে? মানুষ হবার পরিবর্তে বরং কোমলমতি অজস্র তরুণ-তরুণী তুচ্ছ স্বার্থের হানাহানিতে জীবন দিচ্ছে, অন্যায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, অবাস্তব আবেগের বশবর্তী হয়ে জীবন বিনষ্ট করছে। অথচ তাদের মানব কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ, জীবন উৎসর্গকারী হিসাবে গড়ে ওঠার কথা। জীবনে বেপরোয়া উশৃংখল না হয়ে শালীন, শোভন, মার্জিত, রুচিশীল, বিবেকসম্পন্ন, দায়িত্ববান এবং পরোপকারী হয়ে বড় হওয়ার কথা।
তারপরও নির্মম বাস্তবতা যে সময় এগুচেছ, জাতি এগুচেছ এবং যারা প্রকৃত মানুষ হবার প্রত্যাশী, তারা দাঁতে দাঁত পিষে কঠিন সংগ্রামে জীবনকে এগিয়ে নিচ্ছে। আত্মীয়-পরিজনের আদর মায়া ত্যাগ করে দুর-দুরান্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। আজকে কেউই আর বসে নেই এবং সবার জন্যই সমগ্র বিশ্ব কর্মক্ষেত্র। আমরা নিজের দেশে যদি ফুল ফোটাতে পারি, তবে তার খুশবু আমরাই প্রথম পাব। আর যদি তা না হয় তবে যেখানে যে ফুল ফোটার, সেখানে সেটা ফুটবেই।
খ) ক্ষমতা লাভকারী-
ক্ষমতায় গিয়ে যারা ভাল কাজ করে সেসব সৎকর্মশীলদের ভাল কাজের সুবাস যুগ যুগ ধরে মানুষ পায়। তার জন্য লোকেরা তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে, তাদের জন্য দোয়া করে, ভাল নেতৃত্ব দানকারীদের উদাহরণ দিতে তাদের
নাম উচ্চারণ করে।
এমন লোক অনেক কম যারা ক্ষমতা পেয়েও তা পরিত্যাগ করে। তবে তাদের জনকল্যাণমূলক কাজ এবং ক্ষমতার প্রতি নির্লোভ থাকার দরুণ লোকেরা তাদেরকে আরো ভাল জানে।
এমনও বহু লোক রয়েছে যারা ক্ষমতায় না গিয়ে এবং লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে অসংখ্য মানুষের কল্যাণ সাধন করে গেছেন এবং আজও করছেন। একজন সাধারণ প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকও হাজার হাজার ছাত্রের জ্ঞানার্জনে বিশাল
অবদান রাখেন।
তাই ক্ষমতা লাভকারীদের উচিৎ প্রকৃত জনকল্যাণ ও দেশসেবার লক্ষ্যে কাজ করা। নিজের সামর্থ্য, যোগ্যতা, মেধাকে সাধ্যমত কাজে লাগানো। ক্ষমতার চুড়ায় যিনি পৌঁছেন তিনি এমনিতেই স্মরনীয় হয়ে থাকবেন। কিন্তু তাকে শ্রদ্ধার সাথে না ঘৃণার সাথে স্মরণ করা হবে তা নির্ভর করে তার কর্মের ভাল-মন্দের উপর।
বিদ্রোহী কবি নজরুল লিখে গিয়েছেন-
ভোল মোর গান কি হবে লইয়া এইটুকু পরিচয়
আমি শুধু তব কন্ঠের হার হৃদয়ের কেহ নয়।
আমাদো আমারে যদি আসে দিন, এইটুকু শুধু যাচি-
কন্ঠ পারায়ে হয়েছি তোমার হৃদয়ের কাছাকাছি। (গানের আড়াল)
মানুষকে এইরূপ ভালবাসার জন্যই নজরুল এত বড় কবি এবং এত স্মরনীয়।
গ) অর্থ সম্পদশালী-
অর্থ মানুষের জীবন ধারণকে সুন্দর, স্বাভাবিক ও সম্মানজনক করার উপকরণ। কিন্তু তা নির্দিষ্ট পরিমাণ হলেই সর্বোত্তম। অপরিমিত অর্থ সম্পদই কাল হয়ে দাড়ায়। সেই অর্থ লাভের মুর্খতাপূর্ণ বাসনাতেই আমরা আমাদের জীবনকে কুৎসিত, ভয়াবহ -এং দুর্বিসহ করে তুলছি। এমন সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে তার উপর গর্ব করতে আমরা লালায়িত যেন অনন্তকাল আমরা জীবিত থাকব। অথচ অর্থ উপার্জন করতে করতেই আমাদের জীবনেও অস্ত হয়ে যায়। তাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় হলো স্বচ্ছলভাবে পরমুখাপেক্ষী না হয়ে চলার পরিমান সম্পদ থাকলে তা নিজের ও অপরের কল্যাণে কাজে লাগানো, ব্যয় করা, আরো বেশি লোকের সৎভাবে জীবিকা নির্বাহের পথ সৃষ্টি করা। শুধু অর্থ জমা করার পেছনেই মুল্যবান জীবন ব্যর্থ না করা। আর যদি তা না থাকে তবে তা বৈধ পথে উপার্জনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা যেন তা জীবনধারণকে সহজ করে। ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবাই জ্ঞানীর কাজ।
৪. সাধনা-অতীতের শিক্ষা, বর্তমানের কর্মতৎপরতা এবং ভবিষ্যতের জন্য দুরদর্শিতা
যারা দেশের স্বার্থে, মানুষের জন্য কাজ করে গিয়েছেন, তাদের আদর্শকে অনুসরণ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। তাদের দোষ চর্চা করে নিজেদের ছোট না করা এবং সময় নষ্ট না করাই সবচেয়ে হিতকর হবে।
চিন্তা-চেতনায় সার্বক্ষনিক জীবনকে উন্নত করার তীব্র বাসনা, চরম জ্ঞান পিপাসা, কঠোর পরিশ্রম করা এবং পরের কথায় কান না দিয়ে নিজের নির্দিষ্ট কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা একান্ত আবশ্যক।
একজন বিজ্ঞজনকে বলতে শুনেছি- বর্তমান সময়কে emergency এবং crisis period মনে করে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। নিজের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নেয়া এবং কাজের তুফান চালিয়ে দেয়া। তাহলেই বিরাট কিছু অর্জন এবং কান্তিখত ফল লাভ করা সম্ভব।
সাধনার স্বীকৃতির ব্যাপারে নিজের কাজের দ্বারা কিছু অর্জন করতে পারাই নিজের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। যারা আজ সাধারণ পর্যায়ের ভাদের চেষ্টার হাল ধরে থাকা, তাহলেই অসাধারণ ফলাফল অর্জন সম্ভব। অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি- ইচ্ছা ছিল লেখালেখি করব। তাই অনেক স্থানে অনেক লেখা জমা দিয়েছিলাম। প্রকাশ না হলেও হাল ছাড়িনি। তারপর অনেক লেখাই প্রকাশিত হয়েছে। ভবিষ্যতে যে আরো বের হবে তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। অর্থ উপার্জনের প্রয়োজনীয়তা থাকায় তাও করেছি এবং করছি। দেশ-বিদেশ ভ্রমণের শখ ছিল। তাও পরম করুণাময়ের দয়ায় হয়েছে। নিজের গর্ব নয় বরং চেষ্টার ফল। এদেশের আরো অনেক কৃতি সন্তান আছেন যারা তাদের আরো অনেক বড় বড় অর্জনের কথা, চমকপ্রদ উত্থানের কথা বর্ণনা করতে পারবেন। তা সত্তেও সাধারন ব্যক্তির ন্যয় থাকার মাঝে যে আনন্দ ও উপলব্দি রয়েছে তা কোনভাবেই তুচছ বা ভুলবার নয়। বরং ৩১ জীবন সংগ্রামে এবং বড় হওয়ার জন্য সহায়ক।
যারা বড় তাদের বড়ত্বের গুণাবলীর মধ্যে অন্যতম একটি হলো-তারা অপরের মাঝেও বড় হবার সম্ভাবনা দেখেন এবং তা জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। আমার নিজের চাচাতো বোন আমেরিকায় স্কুলের পরীক্ষায় ফলাফল ভাল করায় ছোট হয়েও সে বিল ক্লিনটনের নাম স্বাক্ষরিত প্রশংসাপত্র পেয়েছে যা আমি স্বচক্ষে দেখেছি। তাকে হয়তো বিল ক্লিনটন কোনদিনই চিনবে না কিন্তু সে এই পত্র সারা জীবন নিজের কৃতিত্বের স্বাক্ষর হিসাবে দেখাতে পারবে। গুণীর সমাদরেই গুণের বিকাশ। যারা সমাজে বড় আছেন তারা যদি উদার মনে এগিয়ে আসেন তবেই এদেশের আরো অসংখ্য প্রতিভা বিকশিত হয়ে উঠবে।
যারা জীবনের ব্যাপারে, পরিণতির ব্যাপারে বেপরোযা, বেখেয়ালী, তারা তো আর দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসবে না। বরং সচেতনদেরকেই দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই। যারা সচেতন তাদেরকেই ডঃ মাহাথিরের মত, সোনিয়া গান্ধীর মত দায়িত্বসম্পন্ন হয়ে এক একজন সুউচ্চ আদর্শময় জীবনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। এ জাতিওে জগতের বুকে মধ্যপন্থী আদর্শ জাতিসমূহের অন্যতম একটি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার গুরুভার বহন করতে হবে।
এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার। দেশের অন্যতম শিল্পপতি জনাব নাজমুল আহসান খালেদকে এক অনুষ্ঠানে বলতে শুনেছিলাম-একদিনে বা হঠাৎ করে কোন পরিবর্তন বা উন্নয়ন আশা করা যায় না। বরং ৫০ বা ১০০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলে ভবিষ্যতে তার সুফল লাভ করা সম্ভব। অপর এক ব্যক্তি বলেছিলেন। আমরা আমাদের নিজেদের ভোগ করার জন্যও কাজ করব এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন সুফল ভোগ করতে পারে তার জন্যও বৃক্ষ রোপন করে যাব।
জীবনে যারা বড় হয়েছেন এবং হচ্ছেন ইনশাআল্লাহ তাদের নায় একজন হবারই চেষ্টা করছি। আর যদি নাও হই তবে চেষ্টাকারীদের মধ্যে তো অবশ্যই গন্য হব। একজন বলেছিলেন-If you try you may fail, if you don't try you are sure to fail. দেশে নিঃসন্দেহে অনেক বিজ্ঞজন রয়েছেন যাদের জ্ঞান, কর্ম, চিন্তা-ভাবনা, নিরলস পরিশ্রম দেশকে, জাতিকে কঠিন দুঃসময়ের মাঝেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক প্রতিভাবান, সম্ভাবনাময় ব্যক্তিও নিজকে গড়ে তুলে দায়িত্ব পালন করতে এগিয়ে আসছেন। তবে আরো অনেক অনেক প্রচেষ্টার প্রয়োজন। আমার যেটুকু ভাবনা ও চেষ্টা তা অন্যদের সাথে শেয়ার করার জন্যই কিছু লিখলাম। আশা করি দেশের পরিবেশ দিন দিন উন্নতি লাভ করবে, দেশের মানুষের কল্যাণে এবং বৃহত্তর ক্ষেত্রে বিশ্ববাসীর কল্যাণে এদেশের বুকে বহু প্রতিভার বিকাশ ঘটবে। নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে যত দ্রুত আমরা পদক্ষেপ নিব তত জলদি ফলাফল পাওয়া যাবে। নতুবা তা কেবলই বিলম্বিত হবে।
শেষে একটি কথাই স্মরণ করতে চাই- God helps those who help themselves, গড, সৃষ্টিকর্তা, আল্লাহ, ভাগ্য যাই বলি না কেন, তার প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাস এবং সুধারণা রেখেই বড় হওয়া সম্ভব এবং সহজতর।
উন্নতি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি লাভের জন্য
একজন বলেছিলেন-If you try you may fail, if you don't try you are sure to fail.
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি লিখুন।