১৯৯৭ সনের ঘটনা। হাটহাজারীর এক ভদ্রলোকের সাথে পরিচয় হয় যার বয়স ছিল প্রায় ৮০ বছর। তিনি কথায় কথায় তার যৌবনের প্রারম্ভের ঘটনা বলতে গিয়ে কিভাবে ব্যবসায়িক জীবন শুরু করেন তা বললেন। তখন তিনি এক চায়ের দোকানে কাজ করতেন। তিনি যেই চা বানাতেন তা একাধিক বার টেষ্ট করে চিনি দুধের পরিমাণ ঠিক করতেন। চায়ের টেষ্ট পারফেক্ট হলে তিনি সেই চা গ্রাহককে দিতেন।

সেই সময় এক কাপ চায়ের দাম ছিল নাকি এক পয়সা। অথচ তার চা তিনি বিক্রি করতেন তিন পয়সা দামে এবং তা পান করার জন্য ২/৩ মাইল দূর থেকেও লোক হেঁটে আসত। ঘটনাটি শুনে এটাই মনে পড়ে গিয়েছিল যে, কোয়ালিটি কন্ট্রোল এবং মেইনটেইন করা সবসময়ই সুফল নিয়ে আসে।

২ একজন ভারত থেকে ঘুরে এসে বলল, ওখানকার লোকেরা ঠাট্টা করে বলে, বাঙ্গালী পানি খাতা হ্যায়, চা খাতা হ্যায়, আওর খানা পিতা হ্যায়। বাংলাতে পানীয় 'পান' করার কথাটি প্রচলিত না থাকায় এই তীর্যক মন্তব্য।

৩ মামার কাছ থেকে এক চা বিক্রেতার ঘটনা শুনেছিলাম। সম্ভবত সৈয়দপুর রেলস্টেশনের এক চা বিক্রেতাকে এক গ্রাহক চায়ের অর্ডার দেয়। চিনি-দুধের পরিমাণ জানতে চাইলে গ্রাহক চিনি-দুধ ছাড়াই চা দিতে বলেন। চা পান শেষে দাম দিতে চাইলে চা বিক্রেতা বলে, চিনি দুধ কিছুই তো খাননি। আপনার কাছ থেকে কি আর চায়ের দাম নিব?

8 একবার আম্মার সাথে এক ব্যাংকে যাই। ম্যানেজারের সাথে আলাপকালে তিনি পিওনকে চায়ের অর্ডার দেন। অনেকক্ষণ আলাপের পরও চা আসে না। আমাদের দরকারী কথাবার্তা শেষ হয়ে যাওয়ায় উঠতে চাইলে ম্যানেজার চা আসছে বলে বসতে বলেন। একাধিকবার এরকমভাবে বলার পর শেষ পর্যন্ত ৪৫ মিনিটের মাথায় আমরা উঠেই পড়ি। আশ্চর্য লাগল যে, একজন কিভাবে এক কাপ চায়ের বাহানায় এতক্ষণ সময় ক্ষেপন করতে পারে? তবে এখনো বুঝতে পারি না, তিনি কি সত্যিই চা খাওয়াতে চাননি নাকি পিওন চা আনতে পারেনি।

৫ বাসায় প্রায়ই বেগম-মেরি-জান আবদার ধরে, আপনি এটা বানিয়ে খাওয়াননি, ওটা বানিয়ে খাওয়াননি কিংবা আবার বানিয়ে খাওয়াতে হবে। তাই দুই/একবার করে ভর্তা, ভাজি, তরকারি, শরবত, ফ্রাইড রাইস, ডাল ইত্যাদি বানিয়েছি যেন এটা-ওটা না বানানোর অনুযোগ আর না তুলতে পারে। কিন্তু চা বানানোর অনুযোগ কখনোই তুলতে পারে না। কারণ ২০০৩ এ যখন হজ্বে যাই, তখন প্রতিদিন আমিই চা বানিয়ে দিতাম। কিনে খেলে ১ কাপ চায়ের দাম পড়ত ১ রিয়াল অর্থাৎ ১৫/১৬ টাকা। চা খেয়ে জিড পুড়ত না কিন্তু কলজে জ্বলত। ওয়াটার হিটার নিয়ে গিয়েছিলাম এবং টি ব্যাগ, চিনি, দুধ প্লাষ্টিক গ্লাস ওখান থেকে কিনে নিয়েছিলাম। নিজেরাই চা বানিয়ে খেতাম। চা মজাও হতো এবং রিয়ালও অনেক বেঁচেছিল।



৬ অফিসে প্রায়ই কফি খাওয়া নিয়ে বিভিন্ন কারণে কলিগদের মধ্যে লাগালাগি হতে দেখি। কত ধরণের মন্তব্য যে শোনা যায়। প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা বিদেশ থেকে আমদানী করা কফি ও কফি মেট এর পিছনে চলে যায়। অথচ আমাদের দেশের চা কোন অংশেই খারাপ নয় বরং অনেক ভাল। বিদেশের কফি না খেয়ে দেশের চা খেলে বরং দেশের অর্থনীতিতে অবদান থাকবে।

খারাপ লাগে যখন চিন্তা করি দেশের লোকেদের দুবেলা খেয়ে বাঁচার জন্য অন্ন সংস্থান করাই কষ্টকর। কতজন রক্ত পানি করে বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত। তাই পারতপক্ষে কফি খাই না। বরং চা খেতেই বেশি ভাল লাগে।