যায় যায় দিনে প্রথম দিকে যখন লেখা পাঠাতাম, প্রায়ই নিজের হাতে পাঠাতাম। কারণ ছিল তিনটি। প্রথমত খাম জোগাড় করা আর ঠিকানা লিখে তা পাঠানোর জন্য সময় করে ডাকঘরে যাওয়া একটা ঝকমারি মনে হতো। দ্বিতীয়ত মনে শংকা জাগত যে, ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠালে জায়গামত এবং সময়মত চিঠিটি পৌছে কিনা তার নিশ্চয়তা নেই। তৃতীয়ত লেখা তৈরী করার জন্য মানসিক প্রস্তুতি দিতে সময় লেগে যেত। সাধারনত ডেডলাইন ঘনিয়ে আসতে থাকলে মানসিক চাপ বাড়ত এবং মাথা কাজ করা শুরু করত। তাই লেখাটি রেডি করতে করতে শেষ তারিখ এসে যেত। তখন ডাক বিভাগের মাধ্যমে পাঠানোর পরিবর্তে বেইলী রোডে সন্ধ্যার দিকে যেয়ে নিজেই লেখাটা দিয়ে আসতাম। তাতে করে এই মানসিক শান্তি লাভ করতাম যে, লেখাটা ঠিকমত যথাস্থানে পৌছেছে।

শেষ দিন শেষ বেলায় লেখা পাঠিয়ে মনের মধ্যে শুধু এইটুকু খুতখুতি কাজ করত যে, লেখাটা ছাপা হবে কিনা। কারণ, শেষ দিনে পাঠানো লেখা সম্পাদক বিবেচনায় নিবেন কিনা। সেই দুর্ভাবনাও দূর হয়ে যেত যখন লেখাটি ছাপা হতো। শেষ মুহুর্তে পাঠানো বলে অনেক সময় মনে হতো যে, লেখাটি হয়ত দ্বিতীয় কিংবা শেষ সংখ্যায় বের হবে। কিন্তু প্রায় লেখাই প্রথম সংখ্যায় বের হয়েছে। তাই নিজে পিওন হয়ে লেখা পৌছানোর জন্য পুয়ো আনন্দই উপভোগ করতাম।