কয়েক দিন পুরনো ঢাকায় যাতায়াত করতে হয়েছিল কিছু জিনিসপত্র কেনার জন্য। বেবিট্যাক্সিতে করে আনতাম।
'রাস্তাঘাটে পুলিশ ও ছিনতাইকারীর উপদ্রব সম্বন্ধে জানতাম এবং কিছুটা চিন্তিত থাকতাম। প্রথম দুই একদিন কোনো সমস্যা হয়নি। তারপর দুই একটা ট্রাফিক মোড়ে পুলিশ কিভাবে খবর নেয় সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করলাম।
গাড়িতে করে কি মাল যাচ্ছে তা দেখতে চাইতো। অযথাই সময় নষ্ট ও হয়রানি করবে রেট করা টাকা না দিলে। তাই কোনো উচ্চবাচ্য না করে দিয়ে দিতাম। তবে টাকা নেয়ার নতুন ভাষা শুনতে পেলাম অন্যদের কাছে।
পুরনো ঢাকার রাস্তার ট্রাফিক জ্যাম বিখ্যাত।
মোড়ে মোড়ে গাড়ি একবার করে দাড়াবেই এবং সেটা অবধারিতভাবে কয়েক মিনিটের জন্য। আগে পিছে যাবার কোনো উপায় নেই। এ সময়ই উদয় হয় নেশাখোর, হেরোইনখোর ও চাদাবাজদের। প্রথম যার সঙ্গে, মোলাকাত হয়েছিল তাকে দেখেই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। বললো, কিছু টাকা দেন।
ইতস্তত করছি দেখে আবার বললো, লাল টাকা দিবেন না, তো লাল হইয়া যাইবেন গা। বলতে বলতেই তার মুখের ভেতর থেকে এমনভাবে একটা ব্লেডের ভাঙা টুকরো বের করলো যেন এটা ছেলেখেলা।
আমি একেবারে আতকে উঠেছিলাম ভেতরে ভেতরে। কারণ সে যদি আমার শরীরের কোথাও একটা টান মেরে পালায় তাহলে তাকে ধরাও যাবে না আর আমিও নিজেকে আহত হওয়া থেকে বাচতে পারবো না। তাই তাড়াতাড়ি পকেটে হাত ঢুকিয়ে দুই টাকার যে কয়টা নোট হাতে লাগলো তা বের করে তার হাতে দিয়ে দিলাম। তারপর হাতের ইশারায় চলে যেতে বললাম। এবার বেবিট্যাক্সির ড্রাইভারও তাকে চলে যাবার জন্য তাড়া লাগালো। নেশাখোরটা আস্তে আস্তে চলে গেল।
মনে মনে পিতৃপুরুয়দের ধন্যবাদ দিলাম প্রথমে নিজের অক্ষত থাকার জন্য তারপর অল্প টাকার ওপর দিয়ে ফাড়া কাটার জন্য। কারণ সে লাল টাকা হিসেবে দুই টাকার নোটকেই গ্রহণ করে নিয়েছে। তা না হলে দশ টাকার এবং পঞ্চাশ টাকার নোটও লাল রঙ-এর আছে। সে যদি ওগুলো দাবি করে বসতো তাহলে ক্ষতিটা আরেকটু বেশি হতো। সেটা হয়নি। কিন্তু ওই অভিজ্ঞতা টাকার সঙ্গে ডেঞ্জার সিগনালের (লাল রঙ-এর। সম্পর্ক চিরকালের মতো স্মরণীয় করে দিয়েছে।
ডেঞ্জার সিগনাল
কয়েক দিন পুরনো ঢাকায় যাতায়াত করতে হয়েছিল কিছু জিনিসপত্র কেনার জন্য। বেবিট্যাক্সিতে করে আনতাম।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি লিখুন।