লোকে বলে বলে রে
ঘরবাড়ি ভালা নাই আমার
কি ঘর বানাইব আমি
শূন্যের মাঝার।
হাসন রাজার এই গানের সঙ্গে হয়তো একমত অনেকে নাও হতে পারেন। বিশেষ করে যারা বহুতল বাড়ি বানানোর স্বপ্ন দেখেন বা ইতিমধ্যেই বানিয়ে ফেলেছেন। তবু সত্যি হলো, সবারই বসবাসের জন্য বাসা বাড়ির প্রয়োজন হয়। আর সেই নিরেট বাস্তবতার যাতাকলের, এক পিঠ বাড়িওয়ালা।
অপরপিঠ ভাড়াটিয়া।
বাড়িওয়ালা হবার শখ হয়ত অধিকাংশই দেখেন।। কিন্তু যাদের বাড়ি আছে তারাই জানে বাড়িওয়ালা হবার মজা কি।
এক বাড়িওয়ালার গল্প শুনেছিলাম তার ধানমন্ডিতে বিরাট বাড়ি। কিন্তু ছেলেমেয়েরা সব বিদেশে। তিনিও তাই তাদের সঙ্গে থাকবার জন্য বিদেশ গেলেন। এখন তার চাকরবাকররাই বাড়ির মালিক।
আরেক বাড়িওয়ালা নেহায়েতই সাধাসিধা। সাধাসিধা। তার বাড়িতে এক ভাড়াটিয়া জবরদস্তি কয়েক বছর বিনা তাড়ায় থাকলেন। তারার নিজের আখের গুছিয়ে
এখন নিজেরই বাড়িতে উঠে গেছেন।
এক বাড়ির মালিকের তিন ছেলে। বাড়ি তৈরি হবার পর ছেলেরা নিজেদের মতো তা দখল করে নিল। পিতাকেই উচ্ছেদ।
এবার নিজেদের কথাও বলি। আমরাও বাড়ির মালিক। ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। তবে মজার বিষয় হলো আমরা বাড়ির মালিক হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের বাড়িতে যতোদিন থেকেছি তার চেয়ে বেশি থেকেছি ভাড়া বাড়িতে এবং স্বেচ্ছায় বাড়িওয়ালাদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে মজার বিষয় যেটা লক্ষ্য করেছি সেটা হলো একেক স্থানে থাকাতে বৈচিত্র অনেক বেশি, নানান লোকের সঙ্গে উঠাবসা হয়। যেই অভিজ্ঞতা এবং আনন্দ থেকে এক বাড়িতে যারা বরাবর থেকেছেন সেই ধরনের মালিকেরা বঞ্চিত।
নিজভূমে পরবাসী
বাড়িওয়ালা হবার শখ হয়ত অধিকাংশই দেখেন।। কিন্তু যাদের বাড়ি আছে তারাই জানে বাড়িওয়ালা হবার মজা কি।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি লিখুন।