বৌ প্রায়ই আমাকে বলে, বেহেশতে গেলে এক মুহূর্তের জন্যও সে আমাকে দূরে থাকতে দিবে না। কোন বই পড়া যাবে না, কোন কাজ করা যাবে না, কোন ঝামেলা-ব্যস্ততা থাকবে না, কোন অজুহাতও দেখানো যাবে না। কেবল নিরবচ্ছিন্ন অবসর আর বৌকে আদর করা। এখানে নানা প্রয়োজনে ব্যস্ততার জন্য বৌকে যত কম আদর করা হলো, যত কম খেয়াল করা হলো, তাকে নিয়ে যত কম ঘোরাঘুরি করা হলো, তাকে যত কম সময় দেয়া হলো, তার সাথে যত কম গল্প করা হলো, সেখানে সব সুদে আসলে মেক আপ করে অর্থাৎ পুষিয়ে দিতে হবে।
আমি সবসময় তার কথায় সায় দেই। কারণ তার সাথে আমিও একমত এবং আমারও সেরকমই অভিপ্রায়। কিছুদিন আগেও বৌ যখন কথা প্রসঙ্গে সেই কথা তুলল, তখন আমি তাকে ক্ষেপানোর জন্য দুষ্টুমি করে বললাম, বেহেশতে গেলে তো সেখানে সবাই সবকিছু নিজের মন মত করতে পারবে। তাহলে সেখানে আমি আমার নিজের কয়েকটা ক্লোন করে নিব অর্থাৎ কয়েকটা আমি হব আর তারপর একটা আমি তোমার কাছে সবসময় থাকব, আরেকটা আমি ইচ্ছামত মন ভরে বই পড়ব। আমার অন্য কপিগুলোর মাধ্যমে মনের খেয়ালখুশি মত যেটা খুশি সেটা করব। বৌ বলল যে, সে কোন কিছু জানে না। আসল আমাকে তার কাছেই থাকতে হবে। আমি বললাম, তোমার কাছে আসল আমি থাকি না ক্লোন আমি থাকি তাতে তো আর কোন অসুবিধা নেই। আমি তো সব সময় তোমার কাছেই আছি। দেখলাম এ কথা শুনে তার মনটা ভার হয়ে আছে।
এরপরও আরো দুই-একবার এ ব্যাপারে কথা হয়েছে কিন্তু এর প্রতিবাদে বৌ আমাকে নিজের কাছে রাখার ব্যাপারে কোন যুক্তিসঙ্গত উত্তর বা জোরালো কোন বক্তব্য দিতে পারেনি। বরং আমার কথায় মন খারাপ করেছে।
ইদানিং আমিও মাঝে মধ্যে ব্যাপারটা নিয়ে ভেবেছি যে বেহেশতে গিয়ে যদি আসল আমি বৌয়ের কাছে না থেকে নিজের ইচ্ছা মত অন্য কোথাও গিয়ে বই পড়ি কিংবা অন্য কিছু করি তাহলে কেমন হবে? অনেক চিন্তা করার পর ব্যাপারটার প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করতে পারলাম এবং কথা প্রসঙ্গে একদিন বৌকে বললাম যে, বেহেশতে আসল আমি যদি তার মন খারাপ করে তার কাছ থেকে দুরে থাকি এবং নিজের ইচ্ছা মত অন্য কোন কাজে ব্যস্ত থাকি, তাহলে আর যাই কিছু পাই নিজের মনে সত্যিকারের শান্তি পাব না। বৌও আমার কথায় সায় দিয়ে বলল যে সে এটাই বলতে চাচ্ছিল।
আসলে দুনিয়াতেই হোক কিংবা বেহেশতে, কারো মনে কষ্ট দিয়ে কোনসময় ভালো থাকা যায় না এবং সুখী হওয়া যায় না।
বেহেশতে
বৌ প্রায়ই আমাকে বলে, বেহেশতে গেলে এক মুহূর্তের জন্যও সে আমাকে দূরে থাকতে দিবে না।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি লিখুন।