'চশমা' সংখ্যার জন্য যখন দেখলাম যে লেখা চাওয়া হয়েছে,তখন চিন্তা করছলাম যে কি লেখা যায়। আমার জীবনে এমন কি বাস্তব ঘটনা ঘটেছে যেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পারি।কয়েকদিন ভাবার পর শেষ পর্যন্ত একটা ঘটনা অবশ্য পেলাম এবং তা নিয়ে একটা লেখাও দার করলাম। কিন্তু তারপরও সেটা মনঃপুত হচ্ছিল না। 'মনে হচ্ছিল চশমা নিয়ে আরো ভাল,গুরুত্বপূর্ণ এবং স্মরণীয় কিছু লেখার রয়েছে। মনে মনে বেশ চিন্তার স্রোত বয়ে যাচ্ছিল। একবার মানে হচ্ছিল যে নিজে এখনো চশমা ব্যবহার করি না বলেই হয়তো তেমন কিছু লেখার মত পাচ্ছি না। হঠাৎ একটু আগে গর্ভীরভাবে চিন্তা করতে করতে আমার অবচেতন মনের ঘটনাটি মানসপটে ভেসে উঠল।বুঝলাম যে, না, চশমা নিয়ে যেটা লিখেছি সেটা আমার অন্যতম এবং একমাত্র ঘটনা নয়। বরং আরো একটি ঘটনা রয়েছে যা আমার জীবনে চশমা সংক্রান্ত অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা। তাই লেখা জমা দেবার শেষ বেলায় প্রথম লেখাটিকে পেছনে ফেলে এই ঘটনার কথাই লিখে পাঠালাম।
প্রথম থেকেই মনে বিভিন্ন চিন্তা আসছিল যে চশমার চোখের সাথে, মানুষের সাধারনত: চোখে দেখার সমস্যা হলে কিংবা বয়স বাড়লে যখন দৃষ্টিশক্তি কমে যায়,তখন অনেকটা বাধ্য হয়েই চশমা ব্যাবহার শুরু করে। আমার মনে হচ্ছিল চশমা সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে লেখা অদেরই বেশী আসবে যারা দেখতে পায়। অথচ অনেকে এমন রয়েছে যারা চোখে দেখে না। তাদের কেউ চশমা ব্যাবহার করে আবার অনেকে করে না। তাদের কথা হয়ত কমই আসবে। এ প্রসঙ্গে আমার একটি হাদিস মনে পড়ছিল যে, যাদের এই পৃথিক্ষীতে দুটি চোখ থাকবে না এবং তার উপর তারা আল্লাহতায়ালার জন্য ধৈর্য ধরবে, তাদের জন্য পরকালে জান্নাত রয়েছে। এ থেকে চিন্তা করতাম যে, চোখ আল্লাহর কত বড় নেয়ামত।
এখন ঘটনাটি বলি। আমরা যখন ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে মার্কেটিং বিভাগে পড়তাম, এখন আমাদের একজন স্যার ছিলেন যার চর্মচক্ষুতে দেখার শক্তি ছিল না অর্থাৎ অন্ধ ছিলেন। তিনি কালো রং এর চশমা পড়ে আমাদের ক্লাসে আসতেন। কিন্তু নিঃসন্দেহে তার মানসচক্ষু এত প্রখর এবং দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন ছিল যে তিনি শুধু শিক্ষিতই নন, বরং ঢাকা ভার্সিটির মত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও হয়েছেন। তিনি আমাদের সবার অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ছিলেন এবং তার সাথে সবাই অন্তরঙ্গতা অনুভব করত।ছাত্রজীবনে অনেক স্যারের সাথেই বেক্তিগতভাবে আলাপ হয়নি। কিন্তু অনেক ছাত্র এমনকি আমিও উনাকে হাতে ধরে আমাদের শ্রেণীকক্ষে নিয়ে আসতাম। উনার ক্লাস একমাত্র ক্লাস ছিল যার পাঠদানের সময় ক্লাসে পিনড্রপ সাইলেন্স বিরাজ করত। স্যারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধবশত কেউ কোন শব্দ করত না বা কথা বলত না।।পরীক্ষার হলেও তিনি আমাদের পরিদর্শনে আসতেন।
তাকে দেখে মনে হত দৃষ্টিশক্তি না থেকে উনার মত হওয়াও সার্থক। যার শুধু নিজেরই জ্ঞানচক্ষু উন্মচিত নয়, বরং অন্যদেরও তিনি দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করছেন। অন্য হাজার হাজার চক্ষুমান ব্যক্তিও তার সমকক্ষ নয়। ঢাকা কলেজ এবং ঢাকাভার্সিটিতে পরাকালে আরো কয়েকজন তার ন্যায় ছাত্র দেখেছি যারা চোখে না দেখেও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্নদের চেয়ে কোন অংশে কম ছিলেন না। তাদের কেউ চশমা পড়ে ক্যাম্পাস দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় যদি অন্য কোন ব্যক্তি দেখত তবে জানা না থাকলে ধরতেই পারত না যে সে দৃষ্টিশক্তিহীন।
সেই স্যারের কথা মাঝে মাঝেই মনে পড়ে। তার চশমাটিই আমার দেখা অন্যতম সেরা চশমা যা তার চোখাকে শুধু আড়াল করে রাখত কিন্তু সেটা তার অন্তর্ভেদী দৃষ্টি কিংবা জ্ঞানের আলোর উজ্জ্বলতাকে ঢাকতে পারত না।
মানসচক্ষু
'চশমা' সংখ্যার জন্য যখন দেখলাম যে লেখা চাওয়া হয়েছে,তখন চিন্তা করছলাম যে কি লেখা যায়।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি লিখুন।