কথা প্রসঙ্গে বলা হয় যে, অমুক ব্যক্তি নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। অর্থাৎ তার কোন ধরণের দুশ্চিন্তা নেই এবং ঘুমটাও এসেছে বেশ গভীর। তাতে মনে হয় যে, নাক ডাকাটা বেশ সুখকর ব্যাপার। নাক ডাকার যত দুর্ণাম তার অধিকাংশই হলো অন্যের নাক ডাকা নিয়ে। নিজে নাক ডাকলে তাতে তেমন সমস্যা নেই। কারণ ঘুমিয়ে থেকে তো কেউ আর নিজের নাক ডাকা শুনে না। অপরের নাক ডাকার শব্দই সাধারণত কারো ঘুমিয়ে পড়তে অসুবিধার সৃষ্টি করে। এমনকি সেটা কখনো কখনো ঝগড়া পর্যন্তও গড়ায়।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্বামীদের নাক ডাকা নিয়েই স্ত্রীদের অনুযোগ করতে দেখা যায়। কারণ পুরুষরাই বেশি নাক ডাকে এবং আগে আগে ঘুমিয়ে পড়ে। মহিলারা যদিও বা নাক ডাকে কিন্তু যেহেতু তারা সাধারণত পুরুষদের পরে ঘুমায়, তাই জেগে থেকে তাদের স্বামীর নাক ডাকার আওয়াজ শুনতে হয়। ফলে তাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।
লোকজনের সাধারনত আপনজনদের নাক ডাকার আওয়াজ শোনার ব্যাপারেই অভিজ্ঞতা থাকে। কারণ নাক ডাকার সম্পর্ক ঘুমের সাথে এবং মানুষজন ব্যতিক্রম ছাড়া অপরিচিতদের সাথে ঘুমায় না। আমার ক্ষেত্রেও তাই। তবে তবলীগ জামাতে যাওয়ার কারণে এ সংক্রান্ত দুই-একটা ছোটখাট অভিজ্ঞতা রয়েছে।
একবার এক সফরে একজন ভদ্রলোক এসেছিলেন যিনি প্রচন্ড জোরে নাক ডাকতেন। সেজন্য তাকে মসজিদের একদিকে রেখে বাকী সবাই অন্যদিকে শুতেন। সমস্যা হতো মসজিদ ছোট হলে। কারণ তখন উনার নাক ডাকা বাধ্য হয়েই শুনতে হতো।
আরেকবারের ঘটনা টঙ্গী এস্তেমার। এস্তেমার মাঠে যত লোক জড়ো হয় তাতে এমনিতেই রাতের বেলা অনেক নাসিকা গর্জন শোনা যায়। এটা এড়ানোর কোন উপায় নেই। তবে মুশকিল হয়েছিল একবার যখন নিজের মাথার কাছেই একজন অবস্থান নেন যিনি ঘুমানোর সময় সুউচ্চ গর্জনে নাক ডাকতেন। ভদ্রলোক বেশ স্বাস্থ্যবান এবং সুখী সুখী চেহারার।
এটা ছিল আমার সারা জীবনে শোনা সবচেয়ে বিকট আওয়াজের নাসিকা গর্জন। লোকটি এতই জোরে নাক ডাকত যে সেই আওয়াজে তার নিজেরই ঘুম ভেঙ্গে যেত প্রায়। একটু পরেই ঘুম গাঢ় হলে আবার সশব্দে নাক ডেকে উঠত। এই অবস্থায় প্রচন্ড বিরক্তির মধ্যে সারা রাত কাটল এবং সকালে মাথা ধরে গেল। আশেপাশের অনেকেরই একই অবস্থা। শেষে সারা রাতের অনিদ্রা দিনের বেলায় ঘুমিয়ে কিছুটা পুশিয়ে নিলাম।
নাক ডাকা বিষয়ে প্রথমে ভেবেছিলাম কিছু লিখব না। কারণ এটা মানুষের একধরণের শারিরীক ত্রুটি যার উপকারিতার ব্যাপারে এখনো খুব বেশি কিছু জানতে পারিনি। তবে উপরওয়ালা নাকি সবকিছুর মধ্যেই মঙ্গল রেখেছেন। তাই আশা করি নাক ডাকা সংখ্যাটি পড়ে এ বিষয়ে আরো কিছু জানতে পারব। সবশেষে এ বিষয়ে শোনা একটি স্মরনীয় মন্তব্য তুলে ধরে লেখাটি শেষ করছি। কোন বইয়ে পড়েছিলাম যে, 'স্বামীর নাক ডাকার আওয়াজ কেমন সুরেলা সঙ্গীতের মত মনে হয়, তা কোন বিধবাকে জিজ্ঞাসা করলে জানা যাবে।'
সুরেলা সঙ্গীত
কথা প্রসঙ্গে বলা হয় যে, অমুক ব্যক্তি নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। অর্থাৎ তার কোন ধরণের দুশ্চিন্তা নেই এবং ঘুমটাও এসেছে বেশ গভীর।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি লিখুন।