গ্রামের লোকেরা যারা কোন দিনই শহরে কিংবা ঢাকায় আসেনি তাদের জন্য আমরা ঢাকাবাসীরা প্রবাসীর মতই। দাদীর ইন্তেকালের পর ২/৩ বছর হলো গ্রামের বাড়ীতে যাওয়া হয়নি। আগে নিয়মিত প্রতি বছরই ২/১ বার গ্রামে যেতাম। গেলেই আত্মীয়-স্বজন এমনকি পড়শীরাও অনুযোগ করত, আরো ঘন ঘন বেশী সময় নিয়ে কেন যাই না। অনেক সময় কোন কোন বয়োজেষ্ঠ্য জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলত। বলত, "তোরা তো আঙ্গরে ভুলি গেছত। শহরে থাই তোগো মন হাত্তর অই গেছে। তোগো লাই আঙ্গ হরান হরে। আঙ্গ লাই তোগো হরান হরে না?"
প্রথম প্রথম গ্রামের ভাষা বুঝতাম না। পরে অবশ্য জিজ্ঞাসা করে এবং মনোযোগ দিয়ে শুনে বুঝেছি তারা কি বলে। "হরান হরে" মানে কি তা জিজ্ঞাসা করে জেনেছি যে তার অর্থ "প্রাণ পুড়ে"। তখন আমিও তাদের বাচনভঙ্গী শিখে নিয়ে সমবয়স্কদের বলতাম, "আজও তোগো লাই হরান হরে। ইয়াল্লাই তো তোগোরে চাইতাম বলি (দেখতে) দেশে আই।" তারা তখন তাদের উচ্চারণে কথা বলতে শুনে খুব হাসত। তাদের মত কথা বলতাম বলে তারা ঘনিষ্ঠ হয়ে মন খুলে অনেক গল্প করত।
এখন শহরে থেকে তাদের কথা যখন মনে পড়ে তখন খুব মিস করি এবং তাদের জন্য প্রাণ পুড়ে। যায় যায় দিন "প্রবাসী" সংখ্যার জন্য লেখা চাওয়াতে তাদের কথাই আবার মনে পড়ল। শীঘ্রই তাদের সাথে দেখা করতে যেতে হবে।
হরান হরে
গ্রামের লোকেরা যারা কোন দিনই শহরে কিংবা ঢাকায় আসেনি তাদের জন্য আমরা ঢাকাবাসীরা প্রবাসীর মতই।
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি লিখুন।